পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নাগেশ্বরীর বামনডাঙায় এখনো পানিবন্দি হাজারো মানুষ
পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নাগেশ্বরীর বামনডাঙায় এখনো পানিবন্দি হাজারো মানুষ কুড়িগ্ৰাম প্রতিনিধি:২০-০৮-২০২৬ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়নে প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি পানিবন্দি মানুষ। নদীতীরবর্তী গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল থেকে পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়ায় হাজারো মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে একপর্যায়ে তীরবর্তী এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে বামনডাঙা ইউনিয়নের মালিয়ানিরপার, তেলিয়ানী, ফান্দেরচরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বর্তমানে নদ-নদীর পানি কমলেও ধীরগতিতে পানি নামায় এসব এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবক মিনারুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। পানি কমতে শুরু করলেও অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে থাকায় মানুষের কষ্ট কমেনি। স্থানীয় বাসিন্দা খোকন আলী বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলোর ক্ষতবিক্ষত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেক রাস্তা কাদায় ও গর্তে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া আবাদি জমি ও বীজতলার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেক কৃষিজমিতে এখনো পানি জমে থাকায় ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। পানিবন্দি ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বসতভিটা, উঠান ও চলাচলের পথ থেকে পানি পুরোপুরি না সরায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।