মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
এম টি রহমান মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার…
গোপালগঞ্জ জেলার মানবিক পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, সততা, সাহসিকতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জননিরাপত্তা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) পেয়েছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ।
রাজধানীর রাজারবাগ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া এ পদককে তার কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের জন্যও এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি
পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাগত নিষ্ঠা, দক্ষতা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মো: হাবীবুল্লাহকে এ পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পদকপ্রাপ্তির পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ বলেন, “বিপিএম-সেবা পদক অর্জন আমার একার সাফল্য নয়; এটি গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি।”
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা অর্জন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১৭ পুলিশ সদস্যের বিপিএম-সেবা
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহসহ দেশের মোট ১৭ জন পুলিশ সদস্য এবার বিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হয়েছেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চারটি ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়।
এর মধ্যে ১২ জন বিপিএম, ১৮ জন বিপিএম-সেবা, ১৮ জন পিপিএম এবং ৪৪ জন পিপিএম-সেবা পদক পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের জন্যও গৌরব
পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহর রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননা পাওয়ার খবরে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন জেলা পুলিশ সুপারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে পুরো জেলা পুলিশের কর্মতৎপরতা, পেশাগত দায়িত্ব পালনের মান এবং জনগণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পর্ক।
ফলে এ অর্জন জেলা পুলিশের সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদারভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করছেন।
জননিরাপত্তায় দায়িত্ব আরও বাড়ল
পুলিশের কাজ শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা মামলা তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, অপরাধ প্রতিরোধ, সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহর বক্তব্যেও সেই দায়িত্ববোধের প্রতিফলন দেখা গেছে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ পদক জেলা পুলিশের দায়িত্ব কমায়নি; বরং দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পুরস্কারের মর্যাদা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
একটি রাষ্ট্রীয় পদক যেমন সম্মানের, তেমনি তা ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রত্যাশাও তৈরি করে। জনগণের নিরাপত্তা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনসেবায় আরও দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হবে এ সম্মানের প্রকৃত প্রতিফলন।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহর এ অর্জন তাই শুধু একটি পদক পাওয়ার ঘটনা নয়; এটি জেলা পুলিশের সামনে নতুন দায়িত্ব ও প্রত্যাশারও বার্তা।
রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আরও পেশাদার, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ে উৎসাহিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা গোপালগঞ্জবাসীর।